আর্কাইভ
logo
ads

সাভারের সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’ নয়, আসল পরিচয় সবুজ শেখ—পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪০ পি.এম
সাভারের সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’ নয়, আসল পরিচয় সবুজ শেখ—পুলিশ

সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, আলোচিত সিরিয়াল কিলারের ব্যবহৃত নাম ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ তার প্রকৃত নাম নয়।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, অভিযুক্তের আসল নাম সবুজ শেখ। তার বাবা পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবুজ দ্বিতীয় সন্তান। পরিবারের বড় মেয়ের নাম শারমিন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবুজ শেখের জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। তার আত্মীয়দের একটি অংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন সবুজ। পরে তাদের নির্জন ও পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পাততেন। এসব নারীদের অন্য কারো সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি দেখলেই তিনি সহিংস হয়ে উঠতেন এবং হত্যা করতেন। এসব তথ্য আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তির সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে আসামি যেসব তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত এখনো চলমান।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এনে রাখে সবুজ। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে যুবককে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় নিয়ে হত্যা করে। এরপর তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে দুজনের মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সবুজকে আটক করে পুলিশ। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সবুজের প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। এরপর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে এক যুবককে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলেন। প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর একই স্থানে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়, যাকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছেন সবুজ।

সবশেষ গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারে আরেক যুবককে হত্যা এবং সর্বশেষ শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছে আসামি।

পুলিশ বলছে, এসব হত্যাকাণ্ডের বাইরে আরও কোনো অপরাধে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ