আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মোট প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে ক্যামেরা বসাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি জানান, সরকারিভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, সারা দেশের ৬ হাজার ৫৫২টি ভোটকেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে। অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ব্যয় করা হবে মূলত ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য।
আজাদ মজুমদার বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। যেসব কেন্দ্র এই বিশেষ বরাদ্দের বাইরে থাকবে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সংস্থানের মাধ্যমে ক্যামেরা স্থাপন করবে।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি স্থাপনের কার্যক্রম ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জেলায় শতভাগ কেন্দ্রেই ক্যামেরা বসানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন। এর মধ্যে গাজীপুর জেলা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। ওই জেলায় মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সরকার আশা করছে, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই বাকি সব ভোটকেন্দ্রেও সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হবে। এ কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে কাজের মান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান তিনি।



