আর্কাইভ
logo
ads

সাভারে সিরিয়াল কিলিং: হত্যাকে ‘থার্টি ফোর’ নামে ডাকতেন ভবঘুরে সম্রাট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ এ.এম
সাভারে সিরিয়াল কিলিং: হত্যাকে ‘থার্টি ফোর’ নামে ডাকতেন ভবঘুরে সম্রাট

গ্রেপ্তার হওয়া মশিউর রহমান সম্রাট

সাভারে সংঘটিত ধারাবাহিক ছয়টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভয়ংকর এক মানসিক অবস্থার কথা প্রকাশ করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকে তিনি নিজের ভাষায় ‘থার্টি ফোর’ কিংবা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ বলে উল্লেখ করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট পুলিশকে জানান, কোনো ভবঘুরে বা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে অনৈতিক যৌন আচরণে লিপ্ত হতে দেখলেই তিনি তাদের ‘থার্টি ফোর’ করে দিতেন—অর্থাৎ হত্যা করতেন।

সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তি কোনো মানসিক রোগী নন। তবে অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে মানুষ হত্যা করাই তার কাছে নেশার মতো হয়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়। আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং তার স্থায়ী নিবাস সাভার এলাকায় নয়। প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তদন্তে জানা গেছে, সাভারে অবস্থানকালে সিরিয়াল কিলার সম্রাট অধিকাংশ রাত কাটাতেন সাভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন। এরপর গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাটি নিয়মিত নজরদারিতে থাকলেও প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাবে তখন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার মোড় নেয় গত শুক্রবার রাতে। নজরদারির সময় কমিউনিটি সেন্টারে এক কিশোরীকে সম্রাটের ব্যবহৃত বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ আরও একজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। রোববার দুপুরের পর মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে সম্রাটের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। এরপর রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সম্রাট ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, দিনের বেলায় তিনি থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন, তবে গভীর রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও বিভিন্ন পদচারী সেতু এলাকায় অবস্থান নিতেন। সেখান থেকে ভবঘুরে নারী ও পুরুষদের ফুসলিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাতেন।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, আসামি খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, এই ছয়টি হত্যার বাইরেও সম্রাট অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ