আর্কাইভ
logo
ads

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড: পাঁচ শতাধিক বসতঘর ধ্বংস, আতঙ্কের মধ্যে ক্যাম্পবাসী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৪ পি.এম
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড: পাঁচ শতাধিক বসতঘর ধ্বংস, আতঙ্কের মধ্যে ক্যাম্পবাসী

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক তিনটার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকায় অবস্থিত ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পাঁচ শতাধিক বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেক পরিবার নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করার আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ আজিজ জানান, “এই অগ্নিকাণ্ডে শত শত পরিবার তাদের সবকিছু হারিয়েছে। তারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।”

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত হয় ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে অবস্থিত একটি এনজিও পরিচালিত লার্নিং সেন্টার থেকে। ক্যাম্পের ঘরগুলো অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং বাঁশ ও ত্রিপলসহ দাহ্য উপকরণে নির্মিত হওয়ায় আগুন অল্প সময়ের মধ্যে আশপাশের ঘর ও শেডে ছড়িয়ে পড়ে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, প্রায় চার ঘণ্টার তৎপরতার পর ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানার জন্য তদন্ত চলছে।

এপিবিএন-এর অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পাঁচ শতাধিক ঘর ধ্বংস হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর চার নম্বর ক্যাম্পে একটি হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগের দিন কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুন লেগে অন্তত ১০টির বেশি বসতঘর ধ্বংস হয়েছিল।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড জনজীবন ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদানে কাজ করছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ