ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগর) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর এবার তিনি উল্টো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রুমিন ফারহানা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রশাসনের আচরণে পক্ষপাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যে ভঙ্গিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছিলেন, সেটির উদাহরণ দিতে গিয়ে আমি হাতের ইশারা করেছি। সেটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”
নিজের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটি কথিত অপরাধের জন্য আমাকে তিনবার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই প্রশাসনের অধীনে আমি কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করব?”
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শোকসভার নামে জনসমাবেশ করা হচ্ছে, মাইক ব্যবহার করে বক্তৃতা দেওয়া হচ্ছে, গরু জবাই করে আপ্যায়নের আয়োজন করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব ঘটনার কোনো প্রতিকার তিনি দেখছেন না।
তিনি জানান, সোমবার সকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে তিনি জানতে চান—কার বিরুদ্ধে কী পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাননি বলেও দাবি করেন।
এরই মধ্যে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহানের সই করা চিঠিতে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি এবং বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আবুবকর সরকারের সই করা এক চিঠিতে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বড় আকারের জনসমাবেশ আয়োজন করা হয়, যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী। পরে সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান জুয়েল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং হুমকিমূলক অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন।
এ ছাড়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা মারমুখী আচরণ করেন, যা বিচারিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওর লিংকও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের উপস্থিতিতে বড় স্টেজ নির্মাণ করে জনসভায় বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধ করতে গেলে তিনি ও তার সমর্থকেরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এর আগে রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, “কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখলে চলবে না। আপনাদের ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে যেকোনো আসনেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের পাশাপাশি তার সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন।



