আর্কাইভ
logo
ads

ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পি.এম
ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে: ট্রাম্প

ফাইল ছবি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ধারাবাহিক বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে চলমান সহিংসতা ও বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, দেশটির জন্য এখন ‘নতুন নেতৃত্ব’ প্রয়োজন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকার চলাকালে তাকে খামেনির কয়েকটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট পড়ে শোনানো হয়, যেখানে ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব দেশ পরিচালনার পরিবর্তে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। তার ভাষায়, একজন রাষ্ট্রনেতা হিসেবে খামেনির সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো গোটা দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং নজিরবিহীন মাত্রায় শক্তি প্রয়োগ করা। ট্রাম্পের অভিযোগ, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।

এর আগে একই দিন আয়াতুল্লাহ খামেনি একাধিক পোস্টে ইরানে সহিংস পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেন, ইরানি জনগণের প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও ‘ভুল তথ্য প্রচারের’ দায় ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এবং ইরানি জাতি সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি, খামেনির পোস্টগুলো ট্রাম্পকে কে পড়ে শোনান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আপাত শান্ত সম্পর্কের ভঙ্গুরতাই প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ব্যাপক প্রাণহানির খবর সামনে আসার পর ট্রাম্প জানান, তাকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য ‘খুব শক্তিশালী কয়েকটি বিকল্প’ উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’

সে সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে হবে, হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করতে হবে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

তবে শুক্রবার হঠাৎ করেই ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়। কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে এবং এজন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা ইরানে সংঘটিত সহিংসতায় ৩ হাজার ৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই বিক্ষোভকারী। পাশাপাশি ২২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।

এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

এই বিভাগের আরও খবর

manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ