আর্কাইভ
logo
ads

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বন্ধের পেছনের কারণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ এ.এম
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বন্ধের পেছনের কারণ

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভবিষ্যতে সরকারি ত্রাণ বা সামাজিক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রমে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ–এর খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ৭৫টি দেশের কনস্যুলার অফিসে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে চলমান ইমিগ্র্যান্ট ভিসা যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে এবং এই সময়ে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে হবে

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, মন্ত্রণালয় তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করছে। তাঁর ভাষায়, মূল লক্ষ্য হলো—যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা বা সামাজিক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারেন, তাদের অভিবাসন ঠেকানো।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বহুল আলোচিত ‘পাবলিক চার্জ’ বিধান। গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলার দপ্তরে পাঠানো এক নির্দেশনায় অভিবাসন আইনের আওতায় আরও কঠোর যাচাই–বাছাইয়ের নির্দেশ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে আবেদনকারীদের—

  • স্বাস্থ্যগত অবস্থা

  • ইংরেজি ভাষা শেখার সক্ষমতা

  • আর্থিক সামর্থ্য

  • দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তার সম্ভাবনা

এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়। যাদের ক্ষেত্রে সরকারি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের ভিসা আবেদন বাতিল করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এমনকি বয়স্ক ও অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ভিসা না দেওয়ার সুপারিশ ছিল।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশ।

আফ্রিকা অঞ্চল থেকে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, আইভরি কোস্ট, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনি, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, তানজানিয়া, টোগো, তিউনিসিয়া ও উগান্ডা।

মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চল থেকে রয়েছে ইরান, ইরাক, জর্দান, কুয়েত, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও মঙ্গোলিয়া।

ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আছে আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বসনিয়া, জর্জিয়া, কসোভো, ম্যাসেডোনিয়া, মলদোভা, মন্টিনিগ্রো ও রাশিয়া।

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে রয়েছে বাহামা, বার্বাডোস, বেলিজ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কিউবা, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, হাইতি, নিকারাগুয়া, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ফিজি ও থাইল্যান্ডও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরের জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং আরও সাতটি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর বড় একটি অংশ আফ্রিকার দরিদ্র রাষ্ট্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব দেশের কিছু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করেন। সেই বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই এবার অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিল মার্কিন প্রশাসন।

এই বিভাগের আরও খবর

manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ