স্বামী পরিচয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ফেলে যাওয়া তরুণী রাশেদা বেগম (২২) হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আশরাফুল ইসলাম ওরফে নয়নকে (২৪) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইলের সখিপুর থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আশরাফুল ইসলাম ওরফে নয়ন মাগুরা সদর উপজেলার মতিয়ার রহমানের ছেলে।র্যাব-৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক সনদ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, নিহত রাশেদা বেগম একজন গার্মেন্টসকর্মী ছিলেন। তিনি রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন সুরুজখান বাজার আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।নিহত রাশেদা ও গ্রেফতার আশরাফুল একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশরাফুল রাশেদাকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পশ্চিম তেজতুরীবাজার এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান।
র্যাব জানায়, ওই ফ্ল্যাটে তারা দু’দিন একসঙ্গে অবস্থান করেন। এরপর ২২ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার দিকে আশরাফুল অচেতন রাশেদাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের কাছে নিজেকে রাশেদার স্বামী পরিচয় দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।এদিকে রাশেদার পরিবার জানায়, ২০ ডিসেম্বর থেকে তাকে বাসায় না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে একটি দোকানের সামনে রাশেদা ও আশরাফুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝগড়া হয়। এরপর থেকেই রাশেদা নিখোঁজ ছিলেন এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ঢামেক হাসপাতালের মর্গে এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ রয়েছে। তেজগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি রাশেদা বেগমের বলে শনাক্ত করা হয়।এ ঘটনায় গত ২৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর র্যাব-৩ গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে এবং র্যাব-১৪-এর সহায়তায় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।



