রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক চারটি ঘটনায় চার নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত থেকে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাগুলো আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে আশা আক্তার (২৯) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ভাই আব্দুল্লাহ আকাশ জানান, আশা একটি বিউটি পার্লারে চাকরি করতেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছিল এবং সেই সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরে আরেক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্ক নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যেই শুক্রবার রাতে তিনি গলায় ফাঁস দেন বলে পরিবারের ধারণা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আশার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। তার বাবার নাম আব্দুল কালাম।
ডেমরার পূর্ববক্সনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে কোহিনূর (৩৬) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ডেমরা থানা পুলিশ। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, নিহত কোহিনূরের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলায়।
এদিকে মিরপুরের ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে সানজিদা ইসলাম মিম (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি গলায় ফাঁস দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, বাড্ডা থানার আফতাবনগর বাঘাপুর এলাকার একটি বাসা থেকে সুবর্ণা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড্ডা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, সুবর্ণা তার স্বামীর সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার রাতে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাত দেড়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুবর্ণার গ্রামের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এবং তার বাবার নাম মো. আব্দুল মতিন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



