নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যদিও জামায়াত সমঝোতাকে জোট বলছে না, তারা এটিকে “ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তির আসন সমঝোতা” হিসেবে বর্ণনা করছে। সূত্র জানাচ্ছে, এই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে আসন নিয়ে অসন্তোষের কারণে।
জামায়াত-সহ ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ একটি বার্তায় সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার তথ্য জানান। সকালে তারা বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
সূত্র মতে, সমঝোতার প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। শুরুতে একক প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে সব দলের চাহিদা বেশি হওয়ায় সমঝোতা জটিল হয়ে পড়ে। প্রথমে ৮ দলের সঙ্গে কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলের সমঝোতা গড়ে ওঠে। একক প্রার্থী চূড়ান্তে জামায়াত-এনসিপি ৩০ আসনে সমঝোতায় আসে, ইসলামী আন্দোলনকে ৩১ আসন থেকে ধাপে ধাপে ৪৫ আসন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরও ইসলামী আন্দোলনের অসন্তোষ দেখা দেয়।
মজলিসে আমেলার বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসলেও জামায়াতের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করা হয়। ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, দু’এক দিনের মধ্যে তাদের দল নির্বাচন কিভাবে করবে এবং ওয়ান বক্স নীতি কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তা জানানো হবে। তিনি বলেন, “সবকিছু বোঝাপড়া করে একটি পথে এগোবো। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকলেও ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে জামায়াত ১৫টি আসন দিতে রাজি হলেও, দলটি কমপক্ষে ২৫টি আসন চায়। এই কারণে তারা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়নি।
সূত্র জানাচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামী আন্দোলন ওয়ান বক্স নীতি অনুযায়ী আসন সমঝোতার কাজ শুরু করে। প্রথমে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জামায়াত আলোচনা শুরু করে। পরবর্তীতে জাগপা ও বিডিপি যোগ দেয়। তবে জামায়াত এককভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নেয় যা অন্যান্য দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এতে ইসলামী আন্দোলনের অসন্তোষ দেখা দেয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, “জোট ছিল, আছে, অব্যাহত থাকবে। জোট ভাঙার কোনো ঘটনা ঘটছে না। সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে, পরে আবার করা হবে। সমঝোতার বিষয়গুলো দু’এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।”
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, “জোট গঠন করার মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হওয়া। আসন বণ্টনের কিছু জটিলতা আছে, আশা করি তা সমাধান হবে। দেশের স্বার্থেই এই জোট টিকে থাকা দরকার।”
রাজনীতি সচেতন একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলছেন, “জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন তেলের সঙ্গে পানির মতো। ঐক্য হবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে তারা এক হয়েছে, কিন্তু কে প্রধানমন্ত্রী হবে বা কার কত আসন হবে তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এরা আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার ভাগ বেশি চায়।”
এইভাবে সমঝোতার আনুষ্ঠানিকতা এখন স্থগিত থাকলেও দলগুলোর মধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতা চলছে এবং সমঝোতার চূড়ান্ত রূপ বের হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।



