গণভোটে বিএনপি সংস্কারের পক্ষে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের টিএমএসএস মার্কেটের গোধুলী মিলনায়তনে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের একথা বলেন।
আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, তরুণদের নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদেশের ফ্যাসিস্ট আন্দোলনে তারেক রহমান আমাদের সর্বদা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের কখন কি করতে হবে তার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সকল বৈরি ও ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশে এসেই এদেশের মানুষকে তিনি জানিয়েছেন, আই হ্যাভ এ প্লান, উই হ্যাভ এ প্লান। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন আমরা সংস্কারের পক্ষে। অনেকে অনেক মন্তব্য করছেন।
সাংগঠনিক সভায় রাজশাহী বিভাগের যুবদলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি। আবদুল মোনায়েম মুন্না সন্ধ্যায় রাজশাহী বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের প্রতিনিধিদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনো ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক ভাঁজের মাঝখানে দিয়ে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে সেটিও একটি সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তবে তাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ঈর্শ্বানিত হয়ে কুচক্রী মহলের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় যুবদল প্রস্তুত রয়েছে।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ সময় মুন্না বলেন, জুলাই আন্দোলন শুরুর পর তা বেগবান করে চূড়ান্ত সফলতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন তারেক রহমান। ছাত্র জনতার সাথে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে সুপরিকল্পিতভাবে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের দিকে ধাবিত করেছিলেন তিনি। আর এখানে যুবদলের প্রতিটি ইউনিটের ব্যাপক অবদান রয়েছে। বিএনপি বরাবরই সংস্কারের পক্ষে যা ইতিমধ্যেই বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাদের বক্তব্যে বারবার পরিষ্কার করেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়ায় আসার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। তারেক রহমানের পিতৃভূমি বগুড়া। তিনি এখানে আসবেন। উত্তরবঙ্গের সফর যেহেতু স্থগিত হলো, সেহেতু যে সফর সূচি রয়েছে তার পর্যায়ক্রমে হবে। তিনি সিলেট বিভাগ দিয়ে সফর শুরু করবেন। তারই ধারাবাহিকতায় বগুড়াতেও তিনি আসবেন। তিনি সব জেলাতেই জনসভা করবেন। খুবই দ্রুত জানা যাবে, বগুড়া অন্যতম।
তরুণদের বিষয়ে মোনায়েম মুন্না বলেন, তরুণরা ইন্টারনেট ভিত্তিক কাজ করে, তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। তাদের এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে অনেক সমস্যা। সেই সমস্যা সমাধানে পে-পাল সহ সকল সুবিধা দেয়া হবে। বগুড়ার ২০টি পয়েন্টের ইতিমধ্যে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা চালু হয়েছে। আজিজুল হক কলেজে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তারা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করছে। তরুণদের জন্য খেলার মাঠ। আমরা আমাদের ছাত্রদের কাছে ভাল রেজাল্ট চাই, কিন্তু তাদের ভাল মানের শিক্ষকদের তৈরি করতে হবে। শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ক্লাশে শিক্ষকরা আরও বেশি দক্ষতার সাথে ক্লাশ নিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



