ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জনসম্মুখে ফাঁসির মুখোমুখি হচ্ছেন। গত ৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়া এরফানের পরিবারকে শেষ বিদায়ের জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তাকে কোনো আদালত, আইনজীবীর সাক্ষাৎ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিবারের আইনজীবীকে বাধা ও হুমকি দিয়েছে এবং পরিবারকেও জনসমক্ষে মুখ খোলার ওপর সতর্ক করেছে।
এরফানের বিরুদ্ধে 'সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের' (মোহারেবেহ) অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। পোশাক শিল্পে কর্মরত এই তরুণ সম্প্রতি কারাজ শহরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, এ ধরনের দ্রুত বিচার ও নির্বিচার ফাঁসি ইরান সরকার বিক্ষোভ দমন ও ভয় সৃষ্টি করতে ব্যবহার করছে। চলমান বিক্ষোভে দেশজুড়ে ১০ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার এবং অন্তত ৫০০–২,০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এটি তীব্র সমালোচনার মুখে; যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফাঁসির কার্যক্রম বন্ধ না হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
এরফান সোলতানি এখন ইরানের মানবাধিকার সংকট ও সরকারের কঠোর দমন নীতির প্রতীক হিসেবে বিশ্বে পরিচিত।



