ইরানে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ আটক হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে বিক্ষোভ এখনো থেমে নেই।সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চারজন শিশু এবং দুইজন নিরাপত্তা সদস্য রয়েছেন।
বিক্ষোভ ইতোমধ্যেই ইরানের ৩১ প্রদেশের ২৭টিতে, ২৫০টিরও বেশি স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্ধ-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ২৫০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিপ্লবী গার্ডের স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা বাড়ার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানকে সতর্ক করেছেন, ‘যদি তারা শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষা করবে।’ এতোদূর পর্যন্ত ট্রাম্প কীভাবে হস্তক্ষেপ করবেন তা স্পষ্ট নয়। তবে তার মন্তব্যের জবাবে ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করার হুমকি দিয়েছেন।
মন্তব্যটি নতুনভাবে গুরুত্ব পায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর। এটি ইরানে ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।২২ বছর বয়সী মহসা আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু সেই সময়ে সারাদেশে বিক্ষোভের সূত্রপাত করেছিল। তবে বর্তমান বিক্ষোভ এখনও ততটা বিস্তৃত বা তীব্র নয়।ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক জাতীয় বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংকট, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে পরবর্তীতে দেশের মুদ্রার ভেঙে পড়া বিক্ষোভের নতুন ঝড় সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া খুব কম তথ্য প্রকাশ করছে।অনলাইন ভিডিওতে কেবল সংক্ষিপ্ত দৃশ্য দেখা যায়, যেমন রাস্তায় মানুষ বা গুলির শব্দ। ফলে দেশে সাংবাদিকদের জন্য প্রতিবেদন করা কঠিন, দেশভ্রমণের জন্যও অনুমতি প্রয়োজন এবং হয়রানি বা গ্রেপ্তারের ঝুঁকিও থাকে। তবু বিক্ষোভ থামছে না।সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার বলেছেন, ‘উদ্ধতকারীদের তাদের স্থান দেখাতে হবে।’
সূত্র : এপি



