আর্কাইভ
logo
ads

খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বিএনপিতে নেতৃত্ব ও প্রচারণা নিয়ে নতুন বাস্তবতা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৯ এ.এম
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বিএনপিতে নেতৃত্ব ও প্রচারণা নিয়ে নতুন বাস্তবতা

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দলটির সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে কি না, কবে এবং কী প্রক্রিয়ায়—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি।

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় বিষয়টি বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি ব্যবহার করা হবে—এই প্রশ্নটি দলটির ভেতরে তাৎক্ষণিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর নির্বাচন কমিশনের বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ, তফসিল ঘোষণার আগেই দলের অনেক প্রার্থী প্রচারণার জন্য পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড ছাপিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারও শুরু করেছেন। এসব প্রচারসামগ্রীর বড় অংশেই রয়েছে খালেদা জিয়ার ছবি।

তবে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো প্রার্থী কেবল বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। ওই ছবিটি পোর্ট্রেট আকারে হতে হবে এবং নেতৃত্বমূলক বা বিশেষ ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করা যাবে না। এই বিধানের কারণে বিএনপির প্রার্থীরা এখন দ্বিধায় পড়েছেন—বর্তমান দলীয় প্রধান হিসেবে কাদের ছবি ব্যবহার করা যাবে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। সেখানে একাধিক নেতা তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রেজ্যুলেশন আনার পক্ষে মত দিলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, তারেক রহমান মায়ের মৃত্যুর পর রাজনৈতিক ও মানবিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছুটা সময় নিতে চান। শোকের এই সময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এড়িয়ে চলার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভোগার পর গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ফলে বিএনপির ‘চেয়ারপারসন’ পদটি শূন্য হয় এমন এক সময়ে, যখন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত বিবেচনায় বিষয়টি আপাতত প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। তবে বাস্তবে দলীয় সিদ্ধান্ত, দিকনির্দেশনা এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই। পরিস্থিতি ও সময় বিবেচনায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি পরিষ্কার করতে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ জন্য শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ