মানুষ মানুষের জন্য। পরস্পরের মঙ্গলের প্রয়াসেই গড়ে ওঠে সহমর্মিতার সেতুবন্ধন, সার্থক হয় মানুষের জীবন। সেই মহৎ মানবিক চেতনার আলো নিয়ে উত্তরবঙ্গের জনপদে মানবতার দীপশিখা জ্বালিয়ে রেখেছে বগুড়া চার্চ্চেস অব গড মিশন। মানবকল্যাণের এই মহৎ ব্রত নিয়ে আমেরিকান জেনারেল কনফারেন্সের হোম বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত ১৮৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে মিশনটি। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বেকারত্ব মোচন ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে মিশনটি আজ উত্তরবঙ্গের সামাজিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শিক্ষাই উন্নতির চাবিকাঠি, আর জাতীয় জীবনের অগ্রগতির মূল ভিত্তি। মিশনের শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় বগুড়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সান্তাহার মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় আজও জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। বগুড়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯০৮ সালে সদর উপজেলার সুত্রাপুরে এবং সান্তাহার মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯০৯ সালে আদমদীঘি উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দরিদ্র ও ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে তারা জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় সাফল্য অর্জন করে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় কৃতিত্বের সঙ্গে কাজ করছেন।
১৯৪১ সালে মিশন চত্বরে গড়ে তোলা হয় খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে এটি চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অসংখ্য মানুষের নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। খঞ্জনপুরে স্থাপিত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুন্নত এলাকার জনগণের জন্য অমূল্য অবদান রেখে চলেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিস্তৃত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্যক্যাম্প আয়োজন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় মানুষদের সহায়তা প্রদান করা হয়। চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে হাজার হাজার গরীব রোগীকে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসাপত্র, চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। মানবিকতা ও পরোপকারের যে চেতনাকে ধারণ করে মিশনের পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই দীপ্তি আজও অমলিন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব কমিয়ে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষদের স্বাবলম্বী ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে মিশনটি।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডোনাল্ড দাস জানান, মানবজাতি পরস্পরের সঙ্গে আত্মার নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ। সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে একে অপরের পাশে দাঁড়াতেই প্রকৃত সুখ নিহিত। দুঃখী মানুষের দুঃখ মোচন, বিপন্ন জনের কল্যাণে সেবার হাত বাড়িয়ে দেয়া, ছোট ছোট উপকারে ব্রতী হওয়ার মধ্যেই মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই চার্চ্চেস অব গড মিশন দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। মিশনটি অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার চেতনাকে ধরে রেখে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনকে আলোকিত ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই মিশনের সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলে জানান তিনি।



