আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক ও ১১ জনের বিশ্লেষক দল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশন। তাদের মধ্য থেকে ৫৬ জন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক আগামী ১৭ জানুয়ারি হতে সারাদেশে কাজ শুরু করবে। নিয়োজিতরা তাদের নির্ধারিত এলাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে মূল দলের কাছে রিপোর্ট প্রদান করবে।
ইইউ’র ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের পলিটিকাল এনালিস্ট মারসেল নেগি এবং ইলেকশন এনালিস্ট ভাসিল ভাসচেনকা মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও নির্বাচন নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এসব তথ্য জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।
বৈঠকে ইইউ’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি সারা বাংলাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে, যারা তাদের নির্ধারিত এলাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন এবং মূল দলের কাছে রিপোর্ট করবেন। নির্বাচনের কিছু দিন আগে ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্তকরণ পর্যবেক্ষণের জন্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মিশনে যোগদান করবেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক সম্প্রদায় এবং অংশীদার দেশগুলো থেকে আরও কয়েকজন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক এই মিশনে যোগদান করবেন।
তারা আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে এই মিশনটি সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি তথ্যনির্ভর, সামগ্রিক এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ তুলে ধরবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এই মিশনটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে। এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি মিশনের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর, মিশনটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে। এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি মিশনের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে।
গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনকে সরকারের পক্ষ হতে সকল ধরণের সহযোগিতা করা হবে।



