আর্কাইভ
logo
ads

মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৪ পি.এম
মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ফাইল ছবি

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

তবে একই মামলার একটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওই সাজা বাতিল করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।

এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম। এ ছাড়া প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ আরও কয়েকজন প্রসিকিউটর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানিতে অংশ নেন। রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এই আলোচিত মামলায় সাক্ষ্য দেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা ও অন্যান্য স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এক পর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তথ্য উদ্ঘাটনে সহযোগিতা করায় সাবেক আইজিপি আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতের অনুমোদন পান।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার, প্রশাসনের একটি অংশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল।

বর্তমানে এসব অভিযোগের বিচার দুইটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

সূত্র: বিএসএস

এই বিভাগের আরও খবর

manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ