পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডাটা সেন্টারগুলোর জল ব্যবহার এক নতুন পরিবেশগত সংকটের সৃষ্টি করেছে। সার্ভারগুলো ঠান্ডা রাখার জন্য বিশাল ডাটা সেন্টারগুলো প্রতিদিন গড়ে ২০ লক্ষ লিটার জল ব্যবহার করছে। এই পরিমাণ প্রায় ৬,৫০০টি পরিবারের দৈনিক ব্যবহারের সমান।
আগে ডাটা সেন্টারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কার্বন নিঃসরণ। কিন্তু এখন তাদের ‘জলপিপাসা’ বা জল ব্যবহার বিশ্বের খরা-প্রবণ অঞ্চলগুলোতে বিপদ ডেকে আনছে। অ্যারিজোনা, চিলি এবং ভারতের কিছু অঞ্চলের কৃষকরা ভূগর্ভস্থ জল হ্রাসের কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেছেন।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, যদি এই ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অনেক অঞ্চলের aquifers বা ভূগর্ভস্থ জলস্তর স্থায়ীভাবে শুকিয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং অনেক জায়গায় মিষ্টি জলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির অতিরিক্ত চাহিদা এই সংকটকে আরও গভীর করছে।
তবে ২০২৬ সালে কিছু সমাধানও এসেছে। কয়েকটি প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘জিরো-ওয়াটার কুলিং’ পদ্ধতি পরীক্ষার মধ্যে রেখেছে, যেখানে জলের পরিবর্তে বিশেষ রাসায়নিক বা বাতাসের প্রবাহ ব্যবহার করা হয়। ইউরোপে নতুন আইন প্রবর্তিত হয়েছে, যা ডাটা সেন্টারগুলোকে তাদের জল ব্যবহার সঠিকভাবে রিপোর্ট করতে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য জল ব্যবহার করতে বাধ্য করছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি ডিজিটাল ক্লিকের পেছনে প্রকৃতির একটি মূল্য আছে। AI-এর দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিগুলোকে তাদের পরিবেশগত পদচিহ্ন কমানোর দায়িত্বও নিতে হবে। প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।



