মালয়েশিয়ার নেগারি সেম্বিলান রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সেরেম্বান ও নিলাই এলাকার মোট ১৩টি স্থানে পরিচালিত এই অভিযানে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৭৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে নিলাইয়ের একটি সাবান কারখানা থেকেই এককভাবে ৫৫ জনকে আটক করা হয়।
নেগারি সেম্বিলান অভিবাসন বিভাগের পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সংগ্রহ করা গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বুধবার রাত ১টা পর্যন্ত টানা প্রায় ১৬ ঘণ্টা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোট ৩৯৫ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে বৈধ নথিপত্র না পাওয়ায় ৭৭ জনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭১ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। দেশভিত্তিক হিসাবে আটকদের মধ্যে বাংলাদেশি ২৬ জন, ভারতীয় ২৬ জন, পাকিস্তানি ১০ জন, থাই নাগরিক ৬ জন, মিয়ানমারের ৫ জন এবং ইন্দোনেশিয়ার ৪ জন রয়েছেন।
পরিচালক কেনিথ তান জানান, নিলাই এলাকার একটি সাবান কারখানায় অভিযান চালিয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করা হয়। ওই কারখানা থেকেই ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে, যা অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আটকদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো—বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথিপত্র না থাকা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান করা। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬ এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য সবাইকে লেংগেং ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান শেষে বিভাগীয় প্রধান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি যারা তাদের আশ্রয় দিচ্ছে কিংবা অবৈধভাবে কাজে নিয়োগ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



