চবিতে নিয়োগ বিতর্ক: ভিসি-প্রোভিসির জবাবে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা ছাড়লেন বৈঠক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগসংক্রান্ত ‘অনিয়মের’ অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদ্যাগের জন্য বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা সময় শেষ হওয়ার পরেও তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া পাননি ছাত্রদলের নেতারা।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের সভাকক্ষে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। তবে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক থেকে চলে আসেন।
পরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ অগাস্ট পরবর্তী যে অস্বচ্ছ নিয়োগ ও অনিয়ম হয়েছে। সেটি নিয়ে উপাচার্যের সাথে বসেছিলাম। ওনাকে প্রশ্ন করলে উনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। উনি স্বজনপ্রীতির কথা বলে যাচ্ছিলেন।
“আমরা সর্বশেষ প্রশ্ন করেছিলাম, স্যার নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আপনি স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া করবেন কি না? সেটির উত্তর তিনি দিতে পারেননি। যার কারণে আমরা বৈঠক বর্জন করে চলে এসেছি।”
তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে আরও কঠোর পদক্ষেপে যাবো।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
সে দিন সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে ৬ ঘণ্টা অবস্থান শেষে তারা এ সময় বেঁধে দেন।
রোববার সে সময় শেষে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, আবাসন সংকট, গুপ্ত হামলাসহ একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় স্টেকহোল্ডার। আমরা নানা রকম সুযোগ সুবিধা দিতে পারি নাই। তাদের দাবির মধ্যে অনেক যৌক্তিক দাবি আছে। এগুলোর বিক্ষিপ্তভাবে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। আপনারা সকল দাবি লিখে নিয়ে আসুন। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করবো।”
এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চান, অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগগুলো বাতিল করা হবে কি না?
জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “নিয়োগের ব্যাপারে আমার জানামতে কোন ব্যত্যয় হয়নি। যা কিছু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুয়ায়ী হয়েছে।”
এ বক্তব্যের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে মিছিল নিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সংগঠনের বিশ্বিবিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “নিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমরা ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইতে গিয়েছিলাম।
“আমাদের আবাসন, যাতায়াত ব্যবস্থা, মবের শিকার শিক্ষার্থী, নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্থা এসকল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”